ক্যাশ অন ডেলিভারিতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় যখন কাস্টমার অর্ডার দিয়ে পরে পণ্য নেন না। পার্সেল ফেরত আসে, কুরিয়ার চার্জ আপনার ঘাড়ে পড়ে। দামি পণ্যে বা দূরের ডেলিভারিতে এই ক্ষতি আরও বেশি। Sellsull-এ এখন আপনি নির্দিষ্ট পণ্যে অগ্রিম পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করতে পারেন: কাস্টমার আগে কিছু টাকা bKash/Nagad-এ পাঠাবেন, তারপর অর্ডার হবে, বাকি টাকা পণ্য হাতে পেয়ে।
কখন অগ্রিম নেওয়া উচিত?
- দামি পণ্য: ঘড়ি, ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার, যেখানে একটা রিটার্নেই বড় ক্ষতি।
- যে পণ্যে ফেক অর্ডার বেশি আসে: বিজ্ঞাপনের ভাইরাল পণ্য।
- বানিয়ে বা কাস্টমাইজ করে দেওয়া পণ্য: নাম লেখা পণ্য, মাপমতো পোশাক, যা ফেরত এলে আর বিক্রি হয় না।
- ঢাকার বাইরের ডেলিভারি: যেখানে রিটার্ন চার্জ বেশি।
দুই ধরনের অগ্রিম
- নির্দিষ্ট টাকা: যেমন প্রতি অর্ডারে ৳৩০০।
- ডেলিভারি চার্জ: অর্ডারের ডেলিভারি চার্জটাই অগ্রিম। বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি, কারণ কাস্টমার পণ্য না নিলেও অন্তত কুরিয়ারের খরচটা উঠে আসে।
এক অর্ডারে একাধিক অগ্রিমের পণ্য থাকলে সবচেয়ে বেশিটাই নেওয়া হয়, যোগ করে নয়। আর অগ্রিম কখনো অর্ডারের মোট টাকার বেশি হয় না।
কীভাবে চালু করবেন (৩ ধাপ)
- Payment Gateway-এ পার্সোনাল bKash বা Nagad চালু করে নম্বর দিন। কাস্টমার এই নম্বরেই অগ্রিম পাঠাবেন।
- পণ্যের এডিট পেজে "ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অগ্রিম পেমেন্ট" সুইচ চালু করুন।
- ধরন বাছুন: নির্দিষ্ট টাকা (পরিমাণ লিখুন) অথবা ডেলিভারি চার্জ। সেভ করুন।
কাস্টমার যা দেখবেন
- পণ্যের পাতায় নোট: "ক্যাশ অন ডেলিভারিতে এই পণ্য অর্ডার করতে ৳৩০০ অগ্রিম দিতে হবে"। অর্ডারের আগেই জানেন, তাই পরে বিরক্ত হন না।
- চেকআউট, ১-ক্লিক অর্ডার আর ল্যান্ডিং পেজে অগ্রিমের বক্স: আপনার bKash/Nagad নম্বর, Send Money করার নির্দেশনা আর ট্রানজেকশন আইডির ঘর।
- পুরো টাকা অনলাইনে দিলে আলাদা অগ্রিম লাগে না।
নিরাপত্তা: ভুয়া TrxID দিয়ে কেউ ঠকাতে পারবে না
- TrxID ছাড়া অগ্রিমের পণ্যের COD অর্ডার হয় না, আর ভুল ধাঁচের আইডিও গ্রহণ হয় না।
- একই TrxID দিয়ে আপনার দোকানে দুবার অর্ডার করা যায় না।
- অর্ডার লিস্টে "অগ্রিম যাচাই বাকি" ব্যাজ দেখাবে। bKash/Nagad-এ টাকা মিলিয়ে "টাকা পেয়েছি" চাপুন।
- যাচাইয়ের আগে কুরিয়ারে পুরো টাকাই যায়। "টাকা পেয়েছি" চাপার পরেই Steadfast, Pathao, RedX বা Carrybee-তে COD হিসেবে শুধু বাকি টাকা যায়। ফলে কেউ ভুয়া TrxID দিলেও আপনার টাকা কম ওঠে না।
ছোট কিছু পরামর্শ
- সব পণ্যে অগ্রিম চালু করবেন না। যেখানে রিটার্ন বেশি, সেখানেই করুন; বাকিগুলো সহজ COD থাকুক।
- অগ্রিম কম রাখুন: ডেলিভারি চার্জ বা ৳২০০–৩০০ সাধারণত যথেষ্ট। বেশি চাইলে অর্ডার কমে যেতে পারে।
- পণ্যের বিবরণে কারণটা লিখুন, যেমন "ভুয়া অর্ডার কমাতে অগ্রিম নেওয়া হয়"। কাস্টমার বিশ্বাস করেন।
- যত দ্রুত সম্ভব "টাকা পেয়েছি" চেপে অর্ডার কনফার্ম করুন; দেরি হলে কাস্টমার চিন্তায় পড়েন।
সাধারণ প্রশ্ন
অগ্রিম পেমেন্ট কোন প্ল্যানে পাওয়া যায়?
সব প্ল্যানে।
bKash/Nagad নম্বর না দিলে কী হবে?
তখন অগ্রিম চাওয়া হবে না, অর্ডার আগের মতো সাধারণ COD-তে হবে। কারণ কাস্টমারের টাকা পাঠানোর জায়গা না থাকলে কেউই অর্ডার করতে পারতেন না।
ল্যান্ডিং পেজেও কি কাজ করে?
হ্যাঁ। ল্যান্ডিং পেজে পুরো টাকা অগ্রিম নেওয়ার নিয়ম নিয়ে আলাদা লেখা: ল্যান্ডিং পেজে অ্যাডভান্স পেমেন্ট।
এটা কি ফ্রড চেকের বদলে?
না, দুটো একসাথে ভালো কাজ করে। পাঠানোর আগে কাস্টমারের কুরিয়ার হিস্টরি দেখে নিন: ফ্রি ফ্রড চেক।
পণ্য আসার আগেই অগ্রিম নিয়ে বুকিং নিতে চাইলে পড়ুন: অগ্রিম নিয়ে প্রি-অর্ডার গাইড।