অনলাইনে অর্ডার করার সময় কাস্টমার সবচেয়ে বেশি যে জায়গায় গিয়ে দ্বিধায় পড়েন, সেটা হলো ডেলিভারি চার্জ। দাম যত ভালোই হোক, চেকআউটে হঠাৎ একটা অস্পষ্ট বা বেশি ডেলিভারি চার্জ দেখলে অনেক কাস্টমার অর্ডার বাতিল করে দেন। তাই ডেলিভারি চার্জ ও জোন ম্যানেজমেন্ট শুধু লজিস্টিক্সের বিষয় না — এটা সরাসরি আপনার কনভার্শন রেট ঠিক করে।
কেন "ফ্ল্যাট চার্জ" সবসময় যথেষ্ট না
ঢাকার ভেতরে আর ঢাকার বাইরে ডেলিভারি খরচ কখনোই সমান হয় না। সবার জন্য একই চার্জ রাখলে হয় আপনি শহরের কাস্টমারদের কাছ থেকে বেশি নিচ্ছেন, নাহলে দূরের এলাকায় প্রতি অর্ডারে লোকসান দিচ্ছেন। এলাকাভিত্তিক জোন তৈরি করে প্রতিটা জোনের জন্য আলাদা চার্জ সেট করলে হিসাবটা বাস্তবসম্মত হয় এবং কাস্টমারও বোঝেন কেন চার্জটা এমন।
ইনসাইড/আউটসাইড ঢাকা মডেলও একটা ভালো বিকল্প
ছোট বা নতুন ব্যবসার জন্য প্রতিটা এলাকার জন্য আলাদা জোন বানানো কঠিন মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু "ইনসাইড ঢাকা" ও "আউটসাইড ঢাকা" — এই দুইভাগে ভাগ করেই শুরু করা যায়। ব্যবসা বড় হলে পরে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জোনে upgrade করা যায়।
চেকআউটে চার্জ লুকিয়ে রাখবেন না
কাস্টমার প্রোডাক্ট পেজেই যদি আন্দাজ পান ডেলিভারি চার্জ কেমন হতে পারে, তাহলে চেকআউটে গিয়ে অবাক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। ঠিকানা দেওয়ার সাথে সাথেই সঠিক জোন অনুযায়ী চার্জ দেখানো — এই ছোট UX পরিবর্তনটাই অনেক ক্ষেত্রে cart abandonment কমিয়ে দেয়।
ফ্রি ডেলিভারি — কৌশলে ব্যবহার করুন
একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি অফার করলে কাস্টমার প্রায়ই কার্টে আরও একটা প্রোডাক্ট যোগ করে ফেলেন যাতে ফ্রি ডেলিভারির শর্ত পূরণ হয় — এটা average order value বাড়ানোর একটা প্রমাণিত কৌশল, শুধু খরচ কমানোর বিষয় না।
ডেলিভারি চার্জ যত স্বচ্ছ ও যৌক্তিক হবে, কাস্টমারের আস্থা তত বাড়বে। এটা ছোট একটা সেটিংস মনে হলেও, দিনশেষে এটাই ঠিক করে দেয় কতজন কাস্টমার কার্ট থেকে অর্ডারে পরিণত হবেন।